প্রকাশিত: ০৫/১১/২০১৪ ১:১১ অপরাহ্ণ
অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ !

Police.
তৌহিদ মামুন : নানা অপরাধ আর অপকর্মে জড়াচ্ছে পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ বাহিনীর কনস্টেবল থেকে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা পর্যন্ত এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন। এসব অপরাধ ও অপকর্মের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ গ্রহণ ছাড়াও চাঁদাবাজি, দাবি করা টাকা না পেয়ে হত্যা, গুলি করে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজানো, উদ্ধার করা মালপত্র আত্মসাৎসহ গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশের কতিপয় সদস্য। দিন দিন অপরাধ দমন না করে অপরাধীদের সঙ্গে তাদের সখ্যও বাড়ছে। অপরাধে জড়াচ্ছে পুলিশ

সাম্প্রতিক সময়ে কতিপয় পুলিশ সদস্যের অপরাধ কর্মকা- এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখার পরিসংখ্যান থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সদর দপ্তর এসব ‘অপরাধী’ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেও অপরাধ থামছেই না। বরং কয়েক মাসে পুলিশের অপরাধ বেড়েই চলছে। খোদ রাজধানীর বিভিন্ন থানা পুলিশও জড়িয়ে যাচ্ছে বড় বড় অপরাধে। পুলিশ সদর দপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত আড়াই বছরে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩৪ হাজার ১২৯ জন সদস্য নানা মেয়াদে দ- পান।

গত বছর বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশের ১৩ হাজার ৯৩১ জন নানা মেয়াদে দ- পান। আর চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই সেই সাজাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার।
পুলিশ সদস্যদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান সমকালকে বলেন, ‘সরকারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিনের। সরকার পুলিশকে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করছে। এ কারণে তারা তাদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। সরকার পুলিশ বাহিনীকে নিজস্ব কাজে ব্যবহার করার কারণে পুলিশের সদস্যরা খুব সহজেই ক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছতে পারে। তারা এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করেই নানা ধরনের অপরাধ করছে।’

তিনি জানান, এ ছাড়া পুলিশের মাঠ পর্যায়ের সদস্য থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পর্যন্ত বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণেই পুলিশ অপরাধে জড়ালেও তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না।

এদিকে অভিযোগ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) একেএম শহীদুল হক। গত সপ্তাহে নিজ কার্যালয়ে সমকালকে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কোনো সদস্যের অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।’

গত শনিবার রাজধানীর ভাটারায় এক ব্যক্তিকে আটকের পর অপহরণ নাটক সাজিয়ে টাকা আদায়ের সময় গ্রেফতার হয়েছেন ভাটারা থানা পুলিশের দুই সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল। এর পরের দিনই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় বিদেশি নাগরিকের দেহ তল্লাশির নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বরখাস্ত হন বিমানবন্দর থানার এএসআই আবু আবদুল্লাহ ও তুহিন মিয়া।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, নানা অপরাধে গত আড়াই বছরে (২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত) দুর্নীতি ও শৃক্সখলাভঙ্গসহ নানা অপরাধে পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩৪ হাজার ১২৯ জন পুলিশ সদস্য শাস্তি পেয়েছেন। এর মধ্যে বড় ধরনের অপরাধে গুরুদ- হয়েছে ২ হাজার ৪শ’ পুলিশ সদস্যের। লঘু দ- পেয়েছে ৩১ হাজার ৭২৯ পুলিশ সদস্য।

পুলিশ সদর দফতরের ডিসিপ্লিন অ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত আড়াই বছরে ১১৪ জন ইন্সপেক্টরকে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০৯ জনকে লঘু দ- এবং ৫ জন ইন্সপেক্টর গুরুদ- পান। এর মধ্যে ২০১২ সালে ৪৬ ইন্সপেক্টর, ২০১৩ সালে ৩৯ জন ইন্সপেক্টর এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ২৯ ইন্সপেক্টরকে বিভিন্ন অপরাধে শাস্তি দেওয়া হয়।

এদিকে ওই সময়ের মধ্যে পুলিশের কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার ৩৩ হাজার ৯৮৫ জন সদস্য তাদের অপরাধমূলক কর্মকা-ে সাজা পান। এর মধ্যে নানা অপরাধে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে ২৮৫ জনকে। বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে ১৬ জনকে, লঘুদ- দেওয়া হয়েছে ৩১ হাজার ৬০২ জনকে এবং গুরুদ- দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৮২ জন পুলিশ সদস্যকে।

পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত নানা অপরাধে কনস্টেবল থেকে এসআই পদমর্যাদার ৩৬ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে ৬ হাজার ৬৫৮ জনকে লঘুদ-, ৪০৪ জনকে গুরুদ- এবং একজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৩ সালে একই পদমর্যাদার ৭৫ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয় ও একজনকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়। এছাড়া ওই বছর ১৩ হাজার ১৭৪ জন লঘুদ- ও ৭৫৭ জনকে গুরুদ- দেওয়া হয়।

২০১২ সালে মোট ১২ হাজার ৮৭৯ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে বড় অপরাধের কারণে চাকরিচ্যুত করা হয় ১৭৪ জন পুলিশ সদস্যকে। বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয় ১৪ জনকে। এছাড়া ওই বছর ১১ হাজার ৭৭০ জন পুলিশ সদস্যকে লঘুদ- দেওয়া হয়। ৯২১ জন সদস্য পান গুরু দ-।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরে জুন পর্যন্ত সহকারী পুলিশ সুপার থেকে তদূর্ধ্ব ৩০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. জিয়া রহমান সমকালকে বলেন, ‘অপরাধে জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয় না বলেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা বাড়ছে। এসব পুলিশ সদস্যের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য আইন যুগোপযোগী করা জরুরি।’
সূত্রগুলো বলছে, পুলিশের অপরাধ শুধু সাম্প্রতিক সময়েই নয়। গত অক্টোবর মাসেই এক গাড়িচালককে গুলি করার অভিযোগে গ্রেফতার হন রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। একই ঘটনায় তথ্য গোপন ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় থানার ওসি আবদুল মমিনকে।

একই মাসে রাজধানীর ভাসানটেকে নাসির হোসেন নামে এক যুবককে খুনের ঘটনায় জড়িতদের সঙ্গে সখ্যের অভিযোগে ভাসানটেক পুলিশ ফাড়ির ১৯ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। থানার ওসি ও ইন্সপেক্টরের (তদন্ত) বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গত জুলাই মাসে দাবি করা টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে মিরপুর থানার এসআই কারাগারে রয়েছেন। সমকাল

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত 

পলাশ বড়ুয়া:: কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ভাষা দিবসের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা ...